BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
সংবাদ শিরোনাম
Home / সিলেবাস

সিলেবাস

ইসলামের অর্থ ও সংজ্ঞাঃ

ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগ্যত করা, কোন কিছু মাথা পেতে নেয়া। ইসলাম শব্দের মূল ধাতু سلم এর অর্থ আবার শাান্তি এবং সন্ধি।

পারিভাষিক অর্থে একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত জীবন-যাপন অনুসরণ করা এবং এর বিপরীত সমস্ত মত ও পথ পরিহার করে চলাকেই বলা হয় ইসলাম। মানুষের ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির এটাই একমাত্র সনদ। মূলত মানুষ ইসলামী আদর্শ কবুলের মহান আল্লাহর সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।
কোরআনের ভাষায়:
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ [التوبة : 111] সন্দেহ নেই আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের জান ও মাল বেহেশতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন, এখন তাদের একমাত্র কাজ হলো আল্লাহর পথে লড়াই করা, সংগ্রাম করা। পরিণামে জীবন দেয়া বা জীবন নেয়া।(সূরা আত তাওবা ১১১)

মুসলিম কাকে বলেঃ  মুসলিম শব্দটি সালাম শব্দ থেকে উৎপত্তি যার শাব্দিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা। মুসলিম শব্দের অর্থ আত্নসর্মপনকারী।

পারিভাষিক অর্থেঃ
যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে মহান প্রতিপালক হিসেবে গ্রহন করবে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবেনা এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশিত পথে নিজের জীবন চালাবে, হালাল কে হালাল বলে মানবে এবং হারামকে বয়কট করবে, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, রোজা রাখবে, নিসাবের অধিকারী হলে যাকাত আদায় করবে এবং হজ্জে গমন করবে। এইসব গুনাবলীর অধিকারী হলে তাকে মুসলিম বলা হয়।

ইসলামী সংগঠনঃ

সংগঠনের অর্থ ও সংজ্ঞাঃ

সংগঠন শব্দটির ইংরেজী প্রতিশব্দ Organisation যার শাব্দিক অর্থ বিভিন্ন Organ কে একত্রিত করণ, গ্রন্থায়ন ও একীভূতকরণ বা আত্নীকরণ। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও এক একটি Organ বলা হয়। মানবদেহের এই ভিন্ন ভিন্ন Organ গুলোর গ্রন্থায়ন ও একীভূতকরণের রূপটাই সংগঠন বা Organisation এর একটা জীবন্ত রূপ। মানবদেহের প্রতিটি সেল, প্রতিটি অনু পরমাণু একটা নিয়মের অধীনে সুশৃঙ্খল ভাবে যার যার কাজ সম্পাদন করে যাচেছ। মানুষের দৈহিক অবয়বগুলোর বিভিন্নমুখী কার্যক্রমের প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাব, এখানে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রন আছে। আবার কাজের সুসম বন্টনের ব্যবস্থা আছে, পরস্পরের সাথে অদ্ভূত রকমের সহযোগিতা আছে। মন মগজের চিন্তা ভাবনা কল্পনা ও সিদ্বান্তের প্রতি দেহের বিভিন্ন Organ দ্রুত সমর্থন-সহযোগিতা প্রদর্শন করে। তেমনি দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের অভাব অভিযোগ, অসুবিধা ইত্যাদির ব্যাপারে দেহরূপ এই সংগঠনের কেন্দ্র অর্থ্যাৎ মন ও মগজ দ্রুত অবহিত হয়।
মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের এই একীভূত রূপের অনুকরনে কিছু সংখ্যক মানুষের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে এক দেহ এক প্রাণ রূপে কাজ কারার সামষ্টিক কাঠামো কেই বলা হয় সংগঠন বা Organisation .

 

 ইসলাম ও আন্দোলনঃ আমরা এই পর্যন্ত ইসলামের অর্থ ও সংজ্ঞা প্রসঙ্গে যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম তার আলোকে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আন্দোলন, সংগ্রাম, বিপ্লব প্রভৃতি শব্দ আজ ইসলামের আলোচনায় বা জ্ঞান গবেষণায় নতুন করে আমদানী করা হয়নি। ইসলামের মূল প্রাণসত্তার সাথে এই শব্দ গুলো ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে আছে। আল কোরআন ইসলামকে আদ-দ্বীন হিসেবে (অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান) ঘোষণা করেই শেষ করেনি। বরং সেই সাথে এই ঘোষণা ও দিয়েছে, এই দ্বীন এসেছে তার বিপরীত সমস্ত দ্বীন বা মত ও পতের উপর বিজয়ী হওয়ার জন্যেই। (আত তওবা: ৩৩,আল ফাতহ:২৮,আস সফ:৯)
لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ
কোন বিপরীত শক্তির উপর বিজয়ী হওয়ার স্বাভাবিক দাবীই হলো একটা সর্বাত্মক আন্দোলন, একটা প্রাণান্তর সংগ্রাম, একটা সার্বিক বিপ্লবী পদক্ষেপ। এই কারণেই আল কোরআনে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে ঈমানের অনিবার্য দাবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদিসে বলা হয়েছে,
الجهاد ماض الى يوم القيامة
আল্লাহর পথে জিহাদ বা দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে।

আনুগত্য কাকে বলে?

আনুগত্য অর্থ মান্য করা, মেনে চলা, আদেশ ও নিষেধ পালন করা, উপরন্তু কোন কর্তৃপক্ষের ফরমান-ফরমায়েশ অনুযায়ী কাজ করা প্রভৃতি। আল কোরআনে এবং হাদিসে রাসূলে এর প্রতিশব্দ হিসেবে যেটা পাই সেটা হলো এতায়াম। এতায়াতের বিপরীত শব্দ হলো মাছিয়াত বা এছইয়ান। যার অর্থ নাফরমানী করা, হুকুম অমান্য করা প্রভৃতি।
প্রকৃত আনুগত্য বা প্রকৃত এতায়াত হলো সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর যাবতীয় হুকুম আহকাম মেনে চলা। এটাই মানুষের একমাত্র দায়িত্ব, কর্তব্য এবং করণীয় কাজ যা ইবাদত নামেই অভিহিত। এই প্রকৃত এতায়াতের ব্যবহারিক রূপ হলো:
أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
আল্লাহর এতায়াত কর, রাসূলের এতায়াত কর এবং উলিল আমরের এতায়াত কর। (আন নিসা: ৫৯)
من أطاعني فقد أطاع الله ومن عصاني فقد عصى الله ومن يطع الأمير فقد أطاعني ومن عصى الأمير فقد عصاني
যে আমার এতায়াত বা আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে আমার হুকুম অমান্য করল, সে আল্লাহর হুকুমই অমান্য করল। যে আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল। আর যে আমীরের আদেশ অমান্য করল, সে প্রকৃতপক্ষে আমারই আদেশ অমান্য করলণ (বুখারী ও মুসলিম)
উপরে উল্লিখিত কোরআনের ঘোষণা এবং হাদিসে রাসূলের আলোকে পরিষ্কার বুঝা যায়- আল্লাহর আনুগত্য রাসূলের মাধ্যমে। আর আল্লাহর ও রাসূল উভয়ের আনুগত্য উলিল আমর বা আমীরের মাধ্যমে। তবে আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য শর্তহীন এবং নিরঙ্কুশ, উলিল আমর বা আমীরের আনুগত্য শর্ত সাপেক্ষ এবং আল্লাহ ও রাসূল প্রদত্ত সীমারেখার মধ্যে সীমিত।

ইসলামের সাথে আনুগত্যের সম্পর্ক

ইসলাম ও আনুগত্য অর্থের দিক দিয়ে এক ও অভিন্ন, তেমনি দ্বীন এবং এতায়াতও অর্থের দিক দিয়ে একটা অপরটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইসলামের শাব্দিক অর্থও তাই আনুগত্য বা আতœসমর্পণ করা, এতায়াত শব্দের অর্থ তাই। এভাবে দ্বীন শব্দটির চারটি অর্থ আছে, তার একটি আনুগত্য বা এতায়াত। দ্বীন ও ইসলাম যে বৃহত্তর আদর্শ ও জীবন ব্যবস্থা উপস্থাপন করে, সেই আদর্শ ও জীবন ব্যবস্থার মধ্যে দ্বীন ও ইসলামের আভিধানিক অর্থের, ধাতুগত অর্থের ছাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই শাব্দিক অর্থের আলোকে দ্বীনের এবং ইসলামের অন্তর্নিহিত দাবী অনুধাবন করলে দেখা যাবে যে, এখানে আনুগত্যই মূল কথা। সুতরাং আমরা এটা বলতে পারি, ইসলামই আনুগত্য অথবা আনুগত্যই ইসলাম। দ্বীনের অপর নাম আনুগত্য। আনুগত্যেরই অপর নাম দ্বীন। যেখানে আনুগত্য নেই সেখানে দ্বীন নেই, ইসলাম নেই। আনুগত্যের অপর নাম দ্বীন। যেখানে আনুগত্য নেই, সেখানে দ্বীন নেই। যার মধ্যে আনুগত্য নেই, বাহ্যত সে ইসলামের যত বড় পাবন্দই হোক না কেন,যতই দ্বীনদার হোক না কেন, তার মধ্যে দ্বীন নেই। ইসলাম নেই। কারণ আনুগত্যই দ্বীন ইসলামের প্রাণসত্তা।

আনুগত্যের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা

কোরআনের ঘোষণা:
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ (الشعراء : 150)
আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। (আশ-শূয়ারা: ১৫০)
এখানে আল্লাহকে ভয় করে চলার এবং তার পছন্দনীয় পথে জীবন যাপন করার জন্যে রাসূলের আনুগত্যকে অপরিহার্য করা হয়েছ্ ে। আর এই দুটো শব্দ বিশিষ্ট নির্দেশ অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় কর, আমার আনুগত্য কর- মক্কার সূরাগুলোতে বার বার এসেছে।
কোরআনে হাকীমে আরও ঘোষণা:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا  (النساء : 59)
হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য কর খোদার, আনুগত্য কর রাসূলের এবং সেসব লোকেরও যারা তোমাদের মধ্যে সামগ্রিক দায়িত্বসম্পন্ন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কোন ব্যাপারে মতবিরোধের সৃষ্টি হয় তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা প্রকৃতই খোদা ও পরকালের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাক। এটাই সঠিক কর্মনীতি এবং পরিণতির দিক দিয়েও এটাই উত্তম। (আন নিসা: ৫৯)
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (النور : 51)
ঈমানদার লোকদের কাজতো এই যে, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ডাকা হবে- যেমন রাসূল তাদের মামলা মুকাদ্দমার ফায়সালা করে দেয় তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। (আন নূর: ৫১)
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا (الأحزاب : 36)
কোন মুমিন পুরুষ ও কোন মুমিন স্ত্রী লোকেরও এই অধিকার নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোন বিষয়ে ফায়সালা করে দেবে, তখন সে নিজেই সেই ব্যাপারে কোন ফায়সালা করার ইখতিয়ার রাখবে। (আল আহযাব: ৩৬)
এখানে লক্ষণীয় এই এতায়াতকে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমানের অনিবার্য দাবী হিসেবে পেশ করা হয়েছে।
হাদিসে রাসূলে বলা হয়েছে:
عن ابن عمر ، رضي الله عنهما ، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال على المرء المسلم السمع والطاعة فيما أحب وكره الا يأمر بمعصية فإذا أمر بمعصية فلا سمع ، ولا طاعة
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, মুসলমানদের উপর নেতার আদেশ শোনা ও মানা অপরিহার্য কর্তব্য। চাই সে আদেশ তার পছন্দনীয় হোক, আর অপছন্দনীয় হোক। তবে হ্যাঁ, যদি আল্লাহর নাফরমানীমূলক কোন কাজের নির্দেশ হয় তবে সেই নির্দেশ শোনা ও মানার কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী ও মুসলিম)
عن ابي الْوَلِيدِ عُبَادَةَ بْنِ  الصامت  رضي الله تعالى عنه قَالَ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِى الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ وَعَلَى أَثَرَةٍ عَلَيْنَا وَعَلَى أَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ الا ان تروا كفرا بواحا عندكم من الله تعالى فيه برهان وَعَلَى أَنْ نَقُولَ بِالْحَقِّ أَيْنَمَا كُنَّا لاَ نَخَافُ فِى اللَّهِ لَوْمَةَ لاَئِمٍ
হযরত আবু অলিদ ওবাদা ইবনে ছামেত (রা.) বলেন, আমরা নিম্নোক্ত কাজগুলোর জন্যে রাসূলের কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলাম: ১. নেতার আদেশ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে- তা দুঃসময়ে হোক,আর সুসময়ে হোক। খুশীর মুহূর্তে হোক, আর অখুশীর মুহূর্তে হোক। ২. নিজের তুলনায় অপরের সুযোগ-সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ৩. ছাহেবে আমরের সাথে বিতর্কে জড়াবে না, তবে হ্যাঁ, যদি নেতার আদেশ প্রকাশ্য কুফরীর শামিল হয় এবং সে ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যথে®ট দলিল প্রমাণ থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। ৪. যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি না কেন হক কথা বলতে হবে। আল্লাহর পথে কোন নিন্দুকের ভয় করা চলবে না। (বুখারী ও মুসলিম)
এখানে আল কোরআন এবং হাদিসে রাসূল (সা.) এর আলোকে আনুগত্যের যে গুরুত্ব এবং অপরিহার্যতা আমরা বুঝতে পারি, মানুষের সমাজ জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন কি প্রাণীজগতেও এর বাস্তবতার ও যথার্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ক্ষুদ্র একটা পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্নমুখী প্রতিষ্ঠানের গঠনমূখী কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ঠ লোকদের আনুগত্যের উপরই নির্ভরশীল। বিশেষ যে কোন আন্দোলনের, সংগঠনের জন্যে আনুগত্যই চালিকাশক্তি বা প্রাণশক্তির ভূমিকা পালন করে।
ইসলামে আনুগত্য ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব আরো অনেক বেশী। ইসলামের এই আনুগত্য ও শৃঙ্খলাকে অনেকে আবার অবাস্তব অসম্ভবও মনে করতে চান। তাদের মনকে সন্দেহ-সংশয় মুক্ত করার জন্যে ইসলামের বাইরেও যে এর গুরুত্ব স্বীকৃত এর বাস্তব পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে।
ইসলামের বিজয়ের শুভ সংবাদ, বিশ্বজোড়া খেলাফতের ওয়াদা, আল্লাহর পক্ষ থেকে সূরায়ে নূরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। এই ওয়াদার আগে ঈমানদারদের যে পরিচয় দেয়া হচ্ছে, তাতে আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখাবার কথাই উল্লিখিত হয়েছে। বলা হয়েছে মুমিনদের একমাত্র পরিচয় হলো যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষ থেকে কোন ফরমান শুনার জন্যে ডাকা হয় তখন তাদের মুখ থেকে মাত্র দু’টি শব্দই উচ্চারিত হয়। একটা হলো, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম; দ্বিতীয়ত হলো, মাথা পেতে এই নির্দেশ মেনে নিলাম। এইরূপ দ্বিধাহীন নির্ভেজাল আনুগত্যই সাফল্যের চাবিকাঠি।

আনুগত্যহীনতার পরিণাম

আল কোরআন ঘোষণা করেছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের অনুসরণ কর আর নিজেদের আমল বিনষ্ট করো না। (মুহাম্মদ: ৩৩)
এই আয়াতের পূর্বাপর যোগসূত্র এবং নাযিলের পরিবেশের দৃষ্টিতে এর অর্থ দাঁড়ায়, আনুগত্যহীনতা সমস্ত নেক আমলকে বরবাদ করে দেয়। নবী (সা.) এর পেছনে জামায়াতের সাথে নামাজ পড়েছে তারাই যখন যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করল, তাদের সমস্ত আমল ধূলায় মিশে গেল। আল্লাহ তাদেরকে মুনাফিক নামে ঘোষণা করলেন।
কোরআন পাকের আরও ঘোষণা:
فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ
অথচ তোমরা তাদের প্রতি রাজী ও সন্তষ্ট হলে ও আল্লহ তো কিছুতেই ফাসেকদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না। (আয়াত তাওবা: ৯৬) এই আয়াতের আলোকে বুঝা যাচ্ছে আনুগত্যহীতার পরিণামে আল্লাহর রেজামন্দী থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
কোরআন আরও ঘোষণা করে:
وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ
যদি তোমরা রাসুলের আনুগত্য কর, তাহলে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। আমার রাসূলের দায়িত্ব তো শুধুমাত্র দ্বীনের দাওয়াত সুস্পষ্টভাবে পৌছিয়ে দেয়া। (আন নূর: ৫৪)
এই আয়াতে পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে আনুগত্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে হেদায়েত লাভের খোদা প্রদত্ত তৌফিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হাদিসে রাসূলে বলা হয়েছে:
مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
যে আনুগত্যের গন্ডি থেকে বের হয়ে যায় এবং জামায়াত থেকে বিছিন্ন হয়ে যায় অতঃপর মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু হয় জাহেলীয়াতের মৃত্যু। (মুসলিম)
উক্ত হাদিসে প্রথমতঃ আনুগত্যহীনতাকে জামায়াত ত্যাগের শামিল বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ এর পরিণাম হবে জাহেলীয়াতের মৃত্যু।
আরও বলা হয়েছে:
من كره من أميره شيئا فليصبر ، فإنه من خرج من السلطان شبرا مات ميتة جاهلية
যদি কেউ তার আমীরের মধ্যে অপছন্দনীয় কোন কাজ দেখতে পায় তাহলে যেন ছবর করে। (আনুগত্য পরিহার না করে) কেননা যে ইসলামী কর্তৃ পক্ষের আনুগত্য থেকে এক বিঘত পরিমাণ সরে যায় বা বের হয়ে যায় তার মৃত্যু হবে জাহেলীয়াতের মৃত্যু। (আল হাদিস)
উক্ত হাদিসে প্রথমতঃ আনুগত্যহীনতাকে জামায়াত ত্যাগের শামিল বুঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ এর পরিণাম হভে জাহেলীয়াতের মৃত্যু।
আরও বলা হয়েছে:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِىَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ حُجَّةَ لَهُ وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِى عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) রাসূলে পাক (সঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আনুগত্যের বন্ধন থেকে হাত খুলে নেয়, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় হাজির হবে যে, নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বলার কিছুই থাকবে না। আর যে ব্যক্তি বাইয়াত ছাড়া মারা যাবে তার মৃত্যু হবে জাহেলীয়াতের মৃত্যু।(মুসলিম)
এই হাদিসে আনুগত্য প্রদর্শনে অপারগতাকে বাইয়াতহীনতার শামিল বুঝানো হয়েছে- যার ফলে জাহেলীয়াতের মৃত্যু এবং আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে সক্ষম হওয়া।
দ্বীনি ও ইমানী দৃষ্টিকোণ থেকে আনুগত্যহীতার এই পরিণামের পাশাপাশি এর জাগতিক কুফল, শান্তি শৃঙ্খলাহীনতা, অরাজকতা, ঐক্য-সংহতির বিঘœ হওয়া প্রভৃতির উদ্ভব আবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ আমাদেরকে আনুগত্যহীনতার এই উভয়বিধ কুফল থেকে হেফাজত করুন।

আনুগত্যের দাবী

আমরা দ্বীন ও ইসলামের সাথে আনুগত্য বা এতায়াতের যে সম্পর্ক দেখিয়োছি, তার আলোকেই বলতে হয় ইসলামের বাঞ্চিত আনুগত্য তাকেই বলা যাবে, যেটা হবে মনের ষোলআনা ভক্তি-শ্রদ্ধা সহকারে, পূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠাসহকারে, স্বতঃস্ফুর্ত প্রেরণা সহকারে। কোন প্রকারের কৃত্রিমতা বা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সংকোচ- সংশয়ের কোন ছাপ বা পরশ থাকতে পারবে না। কোন নির্দেশ বা সিদ্ধান্তের আ*রিক দিকটাই কেবল বাস্তবায়ন করলে চলবে না, উক্ত নির্দেশ বা সিদ্ধান্তের অন্তর্নিহিত দাবী মন- মগজ দিয়ে উপলব্ধি করে নিষ্ঠার সাথে এবং সাধ্যমত সর্বোত্তম উপায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহর কোরআন এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছে:
فَلَا  وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (النساء : 65(
আপনার রবের কসম! তারা কখনোও ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষন না তাদের পারস্পারিক ঝগড়া-বিবাদ, মামলা-মুকাদ্দামার ব্যাপারে একমাত্র আপনাকেই ফায়সালা দানকারী হিসেবে গ্রহন করবে, অতঃপর আপনার দেয়া সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের মনে দ্বিধা-সংশয় থাকবে না এবং ঐ সিদ্ধান্ত সর্বোত্তম উপায়ে মাথা পেতে নেবে। (আন নিসা৬৫)
মুনাফিকদের আনুগত্যের দাবীর কৃত্রিমতা প্রসঙ্গে সূরায়ে নূরে আল্লাহ বলেছেন
وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ قُلْ لَا تُقْسِمُوا طَاعَةٌ مَعْرُوفَةٌ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ (النور : 53)
বলে দিন হে নবী! কসম খেয়ে আনুগত্য প্রমাণের তো কোন প্রয়োজন নেই। আনুগত্যের ব্যাপার তো খুবই পরিচিত ব্যাপার।সন্দেহ নেই, আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে অবগত আছেন। (আন নূর: ৫৩)

আনুগত্যের পূর্বশর্ত

আল্লাহ তায়ালা আল কোরআনে এবং নবী (সাঃ) হাদিসে যত জায়গায় এই আয়াত উল্লেখ করেছেন, তার প্রায় সব জায়গাতেই এই  আয়াতের আগে সামায়াত শব্দটা ব্যবহার করেছেন, যার শাব্দিক অর্র্র্থ হলো শোনা, শ্রবণ করা। বলা হয়েছে  اسمعوا و اطيعو  শোন এবং  মান ا سمعنا و اطعنا  শুনলাম এবং মানলাম। যে হাদিসটির মাধ্যমে আমরা জামায়াতী জিন্দেগী র পূণার্ঙ্গ চিত্র পাই সেখানে বলা হয়েছে: আমি তোমাদেরকে পাঁচটি জিনিসের নির্দেশ দিচ্ছি- জামায়াতের, শুনার এবং আনুগত্য করার, হিজরত এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য। এখানে এতায়াতের আগে জামায়াতের কথা বলা হয়েছে। এই থেকে পরিস্কার হয় যে, কোন নির্দেশ ও কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে সেই সিদ্ধান্তটা কি তা আগে ভালভাবে জানা ও বুঝা দরকার। কোন কিছ্রু উপর সঠিকভাবে আমল তো তখনই সম্ভব হবে যখন ব্যাপারটা সম্পর্কে, এর গুরত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা হবে। শুধু নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত আন্তরিকভাবে জানলে ও যথেষ্ট হয় না। এর অর্ন্তনিহিত দাবী এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। তাই কোন সিদ্ধান্ত তা মৌখিক হোক অথবা লিখিত হোক, আসার সাথে সাথে মনোযোগ দিয়ে তা জানারও বুঝার চেষ্টা করতে হবে। কোথাও কোন ব্যাপারে অস্পষ্টতা থাকলে, বা বুঝে না আসলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে আলাপ- আলোচনা করে, অস্পষ্টতা দূর করে সঠিক বুঝ হাসিলের চেষ্টা করতে হয়। রাসূলের শেখানো দোয়া: *** হে আল্লাহ! আমাদের হককে হক হিসেবে দেখান আর তৌফিক দিন তার অনুসরণ করার এবং বাতিলকেও বাতিল হিসেবে দেখান আর তৌফিক দিন তাকে বর্জন করার।
এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কি? হকের অনুসরণ করার জন্যে হককে হক হিসেবে চিনতে পারা অপরিহার্য। বাতিলকে বর্জন করতে হলে তেমনি বাতিল সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা জরুরী। এমনিভাবে যে কোন জিনিসের গ্রহণ বর্জনের ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য। কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অনুসরণের ব্যাপারটা উক্ত সিদ্ধান্ত জানা, বুঝা এবং গুরুত্ব ও পদ্ধতিগত জ্ঞানের উপরই নির্ভরশীল।

ওজর পেশ করা গুনাহ

ইসলামী আন্দোলনের সার কথা – এটা ঈমানের দাবী, নাজাতের উপায় এবং মুসলমানের প্রধানতম কর্তব্য। সুতরাং এই কর্তব্য পালনের পথ করে নেয়া বা সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করাই ব্যক্তির দায়িত্ব। এভাবে যারা সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়, আল্লাহ তাদেরকে সুযোগ করে দেন। আল্লাহ পাকের ঘোষন্ রয়েছে:

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ
*** যারা আমার রাস্তায় সংগ্রম-সাধনা করে আমি তাদের পথ করে দেই। (আল আনকাবূত:৬৯)
فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ذَلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا (3)

*** যে আল্লাহকে ভয় করে, আ*গ তার পথ করে দেন- এমন উপায়ে তার রিযিকের ব্যবস্থা করে দেন যা কল্পনাও করা যায় না। (আত তালাক:২,৩)
অভাব, অভিযোগ ও অসুবিধা প্রত্যেকের কিছু না কিছু থাকেই এবং যার যার বিচারে নিজের সমস্যাই বড় করে দেখা মানুষের একটি প্রকৃতিগত দুর্বলতা। ঈমানের দাবী হরো, এসব অভাব- অভিযোগ বাঅসুবিধা, বাধা-প্রতিবন্ধকতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে এর অজুহাতে কাজ থেকে অব্যাহতি না চেয়ে বরং আরো বেশী বেশী করা।আল্লাহ কালামের ঘোষণা:
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
*** কোন বিপদ-মুছিবত আল্লাহর অনুমোদন বা নির্দেশ ছাড়া আসতে পারে না। যারা আল্লাহর প্রতি সঠিক ঈমান এনেছে তাদের দিরকে আল্লাহ হেদায়াত দান করেন। (আত তাগাবুন:১১)
অর্থাৎ তাদের দিল এই ব্যাপারে সঠিক বুঝ পেয়ে যায় এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটা অজুহাত হিসেবে নিয়ে কাজ থেকে দূরে থাকার চিন্তা করে না।
আল কোরআনের ঘোষলায় এক পর্যায়ে এভাবে ওজর পেশ করে কোন নির্দেশ পালন থেকে অব্যাহতি চাওয়াকে ঈমানের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যত্র অনুমতি প্রার্থনর সুযোগ দেয়া হয়েছে বটে কিন্তু আলোচনার ধরন-প্রকৃতি ভালভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করলে দেখা যায়, অনুমতি চাওয়াকে অপছন্দ করা হয়েছে-এটা গুণহর কাজ এই বলে সূক্ষভাবে ইঙ্গিত ও দেয়া হয়েছে যে:
لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ
*** যারা আল্লাহ এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান পোষণ করে, তারা কখনো আল্লাহর পথে জানমাল দিয়ে জিহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি চাইবেনা। (সূরা তওবা:৪৪)
সূরায়ে নূরে কথাটা অন্যভাবে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে:
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَنْ لِمَنْ شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
*** মুমিন তো প্রকৃত পক্ষে তারাই যারা আল্লাহ ও রাসূলকে অন্তর থেকে মানে। আর যখন কোন সামষ্টিক কাজ উপলক্ষে রাসূলের সাথে থাকে, তখন অনুমতি না নিয়ে কোথাও যায় না। হে নবী (ছাঃ) এভাবে যারা আপনার কাছ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও রাসূলকে মান্য করে চলে। অতএব তারা যখন কোন ব্যাপারে অনুমতি কামনা করে তাহলে তাদের মধ্য থেকে যাকে চান অনুমতি দিতে পারেন এবংএরূপ লোকদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্খনা করবেন। আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (আন নূর:৬২)
এখনে সূরা নূরের আয়াতটি মূলত মুনাফিকদের লক্ষ্য করে বলা হয়েছ যারা দায়িত্ব ওকর্তব্যে ফাঁকি দেয়ার মন-মানসিকতা নিয়ে অনুমতি চাইত। এই মন-মানসিকতাসহ ওজর পেশ ও অনুমতি অব্যাহতি কামনা আসলেই ঈমানের পরিপন্থী। সূরা নূরের কথাটা কোন মৌলিক সিদ্ধান্তের ওপর আমল করাথেকে অব্যাহতি কমনা করা নয় বরং কোন সামষ্টিক কর্যক্রম থাকা অবস্থায় সেখান থেকে সাময়িক প্রয়োজনে এতটু এ;িত ও;িত যাওয়া আসার মধ্যেও সীমাবদ্ধ। এখানে জামায়াতী শৃঙ্খলার ব্যাপারটাই প্রধান। সে ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়, যারা কোন কারণে অনুমতি প্রর্থনা করবে তাদের সবাইকে অনুমতি দিতে বলাহয়নি বরং বলা হয়েছে,তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে দোয়া করবেন।
ওজর পেশের সঠিক পদ্ধতি হলো, ব্যক্তি নিজে এই ওজরের কারণে কাজ না করার ফায়সালা দেবে না। বরং শুধু সমস্যাটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যাই আসুক তাতেই কল্যাণ আছে, এই আস্থা রাখবে।

আনুগত্যের পথে অন্তরায় কি কি

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
আনুগত্য প্রদর্শনে যারা ব্যর্থ হয়, তারা আতœপক্ষ সমর্থনে অনেক অজুহাত পেশ করে থাকে। অনেক সুবিধা অসুবিধার কথা বলে থাকে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এগুলোর স্বীকৃতি দেন না। তার পক্ষ থেকে আনুগত্যহীনতার কারণ হিসেবে পরকালের জবাবদিহির অনুভূতির অভাব,আখেরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়ার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন বলছে: *** হে ঈমানদারা লোকেরা! তোমাদের কি হয়েছে যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হতে বলা হলো তোমরা মাটি কামড়িয়ে পরে থাকলে? তোমরা কি আখেরাতের মোকাবেলায় দুনিয়ার জীবনকেই পছন্দ করে নিলে?যদি এমনই হয়ে থাকে তাহলে জেনে নিও, দুনিয়ার এইসব বিষয় সামগ্রী আখেরাতে অতি তুচ্ছ ও নগন্য হিসেবে পাবে। (আত তাওবা:৩৮)
كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِالدِّينِ
কখনও না, বরং প্রকৃত ব্যাপার হলো,তোমরা প্রতিফল দিবসের প্রতি অবিশ্বাস পোষন কর।(আল ইনফিতার:৯)
وَأَكِيدُ كَيْدًا (16) فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا (17)
বরং তোমরা তো দুনিয়ার এই পার্থিব জীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাক।অথচ আখেরাতের জীবনই উত্তম ও স্থায়ী। (আল আলা:১৬-১৭)
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
তোমাদেরকে বেশী বেশী করে দুনিয়া ভোগ করার প্রবণতা এবঙ একে অপরকে এই ব্যাপারে ডিঈিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গাফলতির মধ্যে নিমজ্জিত করে রেখেছে।(আত তাকাসুর:১)
আল কোরআনের উল্লিখিত আয়াতসমূহের আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আখেরাতের অনুভূতির অভাব এবং দুনিয়া পূজার মনোভাবই আনুগত্যহীনতার প্রধানতম কারণ।দ্বিতীয় পর্যায়ের কারণ হিসেবে আসে যার যার জায়গায় নিজ নিজ দায়িত্বের যথার্থ অনুভূতির অভাব।সেই সাথে বিভিন্ন কাজের বা সিদ্ধান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক চেতনার (চৎড়ঢ়বৎ সড়ঃরাধঃরড়হ)-এর অভাব। কাজটা হলে কি কি কল্যাণ বা লাভ হবে, না করলে কতটা ক্ষতি ব্যক্তির হবে, কতটা ক্ষতি আন্দোলন ও সংগঠনের হবে- এই চেতনা ওউপলব্ধির অভাবও সাধারণভাবে আনুগত্যের পথে বাধা হযে দাঁরায়।
উপরে বর্ণিত কারণ ছাড়াও কিছু মারাত্মক ও ক্ষতিকর কারণ রয়েছে, যেগুলোর কারণে জেনে বুঝেও মানুষ আনুগত্য করতে ব্যর্থ হয়।
এক: গর্ব, অহঙ্কার, আত্মপূজা,ও আত্মম্ভরিতা।
গর্ব অহঙ্কার হলো ইবলিস চরিত্র।ইবলিস আল্লাহর হুকুম পালনে ব্যর্থ হলো কেন?
আল্লাহ বলেন: ****
أَبَى وَاسْتَكْبَرَ
সে হুকুম পালনে অস্বীকার করল এবং অহঙ্কার প্রর্দশন করল। (আল বাকারা: ৩৪)
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ***
আল্লাহ কখনও অহঙ্কারীকে পছন্দ করে না। (লুকমান: ১৮)
হাদিসে কুদসীতে বলা হয়েছে- আল্লাহ বলেন: অহঙ্কার তো আমার চাদর (একমাত্র আমার জন্যেই শোভনীয়)। যে অহঙ্কার করে, সোপ্রকৃত পক্ষে আমার চাদর নিয়েই টানাটানি করতে ব্যর্থ প্রয়াস পায়।
মানুষের দুর্বলতার ্রই ছিদ্র পথ বেয়ে ইবলিস সুযোগ গ্রহণ করে, তার মনে আবার হাজারো প্রশ্ন তুলে দেয়- সিদ্ধান্ত কে দিল? হুকুম আবার কার মানব? আমি কি, আর সে কে? এই অবস্থায় মানুষের উচিত ইবলিসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্যে আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়া, তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। এটা একটা রোগ মনে করে, ইবলিসি প্রতারণা মনে করে কেউ যদি কাতর কণ্ঠে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় তাহলে আল্লাহ সে ফরিয়াদ শুনে থাকেন, তার বিপন্ন বান্দাকে সাহায্য করে থাকেন। আল্লাহ পাকের ঘোষণা: ***
وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
যদি তোমরা শয়তানের পক্ষ থেকে কোন উস্কানী অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা কর। তিনি তো অবশ্য সব কিছু শোনেন এবং জানেন। (হা-মীম আস সাজদা:৩৬)
দুই: এই পর্যায়ের দ্বিতীয় কারণ- হূদয়ের বক্রতা যা সাধারণত সৃষ্টির মাধ্যম। মূসা(আঃ) এর কওম সম্পর্কে আল্লাহ সূরায়ে সফে বলেছেন:
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
*** মূসা (আঃ) এর কথা স্মরণ কর, যখন তিনি তার কওমকে লক্ষ্য করে বললেন, আমাকে তোমরা পীড়া দিচ্ছ কেন বা উৎপীড়ন করছ কেন? অথচ তোমরা তো জান যে, আমি আল্লাহর রাসূল। এরপরও যখন তারা বাকা পথে পা বাড়াল, আল্লাহ তাদের দিলকে বাঁকা করে দিলেন। (আস সফ: ৫)
মূসা (আঃ) কে তারা উৎপীড়ন করতো কিভাবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিভিন্ন সময়ের বিিিভন্ন নির্দেশ ফাঁকি দেয়ার, পাশ কাটানোর উদ্দেশে আবোল- তাবোল ও জটিল প্রশ্নের অবতারণা করতো।আল্লাহ তায়ালা এটাকেই বাঁকা পথে চলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর এর পরিণামে সত্যি সত্যি আল্লাহ তাদের দিলকে বক্র করে দিয়েছেন- এভাবে নবীর প্রতি ঈমানের ঘোষণা দেয়ার পরও ফসেকদের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে নিজেদের কর্মদোষে। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদীকে এই রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্যেই বনী ইসরাঈলেরকীর্তিকলাপ ও তার পরিণাম সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সেই সাথে হেদায়াত লাভের পর *দয়ের বক্রতার শিকার হয়ে যাতে আবার গোমরাহীর শিকারে পরিণত না হয় এই জন্যে দোয়া শিখিয়েছেন
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
*** হে আমাদের রব! একবার হেদায়াত দানের পর তুমি আমাদের হৃদয়কে বাঁকা করে দিও না। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে খাস রহমত দান কর, তুমি তো অতিশয় দাতা ও দয়ালু। (আলে ইমরান:৮)
তিন: এই পর্যায়ের তৃতীয় করণটি হলো, অন্তরের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সংশয়-সন্দেহের প্রবণতা। সাধারণত এই মানসিকতা জন্মলাভ করে লাভ-ক্ষতির জাগতিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও হিসাব- নিকাশের প্রবণতা থেকেই। আল কোরআনে সূরা হাদিসের মাধ্যমে আখেরাতের ঈমানদার ও মুনাফিকদের সংরাপের যে বিবরণ পাওয়া যায় তা গভীরভাবে লক্ষ্য করলে এই সত্যটাই ধরা পড়ে। আল্লাহ বলেছেন:
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انْظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ (13) يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُنْ مَعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنْتُمْ أَنْفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ (14)
***
সেই দিন মুনাফিক নারী পুরুষদের অবস্থা এমন হবে যে, তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, একটু আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখ না। যাতে করে আমরা তোমদের নূর থেকে একটু ফায়দা নিতে পারি। কিন্তু তাদের বলা হবে, পেছনে ভাগ। অন্য কোথাও নূর তালাশ করে দেখ। অতঃপর তাদের মাঝে একটা প্রাচীর দিয়ে আড়াল করে দেয়া হবে। যার আকটা দরজা থাকবে। সেই দরজার ভেতরে থাকবে রহমত, আর বাইরে থাকবে আজাব,তারা (মুনাফিক) মুমিনদেরকে ডেকে ডেকে বলবে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? মুমিনরা উত্তরে বলবে, হ্যাঁ, ছিলে তো বটেই, তবে তোমরা নিজেরাœি নিজেদেরকে ফেতনার শিকারে পরিণত করেছিলে। তোমরা ছিলে সুযোগ সন্ধানী, সুবিধাবাদী, তোমরা ছিলে সন্দেহ- সংশয়ের শিকার। মিথ্যা আশার ছলনায় তোমরা ধোঁকা খেয়েছ। অবশেষে আল্লাহর শেষ সিদ্ধান্ত এসেই গেছে। আর সেই ধোঁকাবাজ (শয়তান) শেষ মূহুর্ত পযর্ন্ত তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারেও ধোঁকায় ফেলে রাখতে সক্ষম হয়েছে। (আল হাদিস:১৩,১৪)
উক্ত আয়াতের শেষের দিকের কথাগুলো সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাবাদী মন-মানসিকতা, সন্দেহ-সংশয় এবং মিথ্যা আশার ছলনা এই তিনটি জিনিসই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় বস্তুবাদী চিন্তা থেকে, লাভ-ক্ষতির জাগাতকা হিসাব-নিকাশ থেকে। যাপরিণামে আনুগত্যহীনতার জন্ম দিয়ে থাকে।

আনুগত্যের পরিবেশ সৃষ্টির রূহানী উপকরণ

এাই বিষয়টা বিশেষ করে দায়িত্বশীলদের জন্যে। কিন্তু সর্বস্তরের দায়িত্বশীল তো কর্মীদের মধ্য থেকেই এসে থাকে। তা ছাড়া সংগঠনের বাইরে জনগোষ্ঠীর মাঝে আন্দোলনের প্রভাব বলয় সৃষ্টির ক্ষেত্রে সাধারণ কর্মীরাও তো পরিচালনা বা নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করে থাকে। কাজেই নেতা-কর্মীসবার জন্যেই আটা প্রযোজ্য।
আনুগত্যের পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেতে আমার জানা মতে তিনটি উপকরণকে রূহানী উপকরণ বলা যায়। অথবা এই দিনটিকে কেন্দ্র করে আনুগত্যের ক্ষেত্রে রূহানী পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
এক: সর্ব পর্যায়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিগত ভাবে এবং সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে। এই পথে উন্নতির জন্যে প্রতিনিয়ত আত্মসমালোচনার সাথে এই আনুগত্যের মান বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
দুই: কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় বডির সিদ্ধান্তের প্রতি নিষ্ঠার সাথে শ্রদ্ধা পোষণ করবে। অত্যন্ত যতœ সহকারে তা বাস্তবায়নের প্রয়াস চালাবে। আর অধস্তন সংগঠনের নেতৃত্বের দায়িত্বে যারা থাকবে তাদের উর্ধ্বতন সংগঠনের, ঊর্ধ্বতন নেতার আনুগত্যের ব্যাপারে আদর্শ স্থাপনের প্রয়াস পেতে হবে।
তিন: যাদের সাথে নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করা হচ্ছে, যাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়, তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করা অভ্যাসে পরিণত হতে হবে।
এছাড়া নেতৃত্ব যারা দেবে বা সংগঠন যারা পরিচালনা করবে, তাদেরকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নি¤œলিখিত কয়েকটি ব্যাপারে অগ্রগামী হতে হবে। নিজস্ব সহকর্মী, সাথী-সঙ্গীর গ-ি পেরিয়ে সাধারণ মানুষও তাদের এই অগ্রগামী ভূমিকা বাস্তবে উপলদ্ধি করবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা স্বীকারও করবে।
(এক) ঈমানী শক্তি ও ঈমানের দাবী পূরণের ক্ষেত্রে
(দুই) ঈমানী শক্তি অর্জন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে
(তিন) আমল, আখলাক ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে
(চার) সাংগঠিন যোগ্যতা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে
(পাঁচ) মাঠে ময়দানের কর্মতৎপরতা ও ত্যাগ, কোরবানী ও ঝুঁকি নেয়ার ক্ষেত্রে।
উল্লিখিত পাঁচটি ব্যাপারে কোন নেতা বা পরিচালক অগ্রগামী হলে তার প্রতি কর্মী তথা সাধারণ মানুষের মনে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ভক্তি শ্রদ্ধা সৃষ্টি হতে বাধ্য। এই ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে দ্বীনি আবেগ জড়িত হওয়াটাও একান্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। নেতা এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলেই কর্মীরা তাকে প্রাণঢালা ভালবাস, তার জন্যে প্রাণ খুলে দোয়া করে। তার কথায় সাড়া দিতে গিয়ে যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হয় দ্বিধাহীন চিত্তে

 

 

ঈমান ও আক্বীদাঃ

প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌।

প্রশ্নঃ আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত।

প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?
উত্তরঃ সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে। (সূরা ত্বহাঃ ৫)

প্রশ্নঃ আল্লাহর আরশ কোথায় আছে?
উত্তরঃ সাত আসমানের উপর।

প্রশ্নঃ আল্লাহ কি সর্বস্থানে বিরাজমান?
উত্তরঃ না। আল্লাহ্‌ সবজায়গায় বিরাজমান নন। তিনি সপ্তকাশের উপর সুমহান আরশে সমুন্নত। (সূরা ত্বাহাঃ ৫)

প্রশ্নঃ আল্লাহর কাজ কি?
উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক প্রদান, বৃষ্টি বর্ষণ, লালন-পালন করা, সাহায্য করা, জীবন-মৃত্যু প্রদান, পরিচালনা করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ তাওহীদ কাকে বলে?
উত্তরঃ তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। পরিভাষায়ঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদ।

প্রশ্নঃ তাওহীদ কত প্রকার?
উত্তরঃ তাওহীদ ৩ প্রকার।

প্রশ্নঃ তিন প্রকার তাওহীদ কি কি?
উত্তরঃ (১) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ বা কর্ম ও পরিচালনার একত্ববাদ (২) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ বা দাসত্বের একত্ববাদ (৩) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত বা নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ।

প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ তাঁর কর্ম সমূহে একক- তাঁর কোন শরীক নেই, একথা মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌।

প্রশ্নঃ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?
উত্তরঃ বান্দার ইবাদত-বন্দেগী ও দাসত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌।

প্রশ্নঃ তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত কাকে বলে?
উত্তরঃ কুরআন ও হাদীছে আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী উল্লেখ রয়েছে, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিপূর্ণতার প্রমাণ বহন করে, সেগুলোকে কোন প্রকার ধরণ-গঠন নির্ধারণ না করে বা অস্বীকার না করে সেভাবেই মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত।

প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?
উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক দেয়া, বৃষ্টি দেয়া, লালন-পালন করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?
উত্তরঃ ঈমান, ভয়-ভীতি, আশা-আকাঙ্খা, ভালবাসা, দু’আ-প্রার্থনা, সাহায্য কামনা, উদ্ধার কামনা, রুকূ-সিজদা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাতের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ الرحمن আর্‌ রাহমান, السميع আস্‌ সামী’ (শ্রবণকারী) البصير আল বাছীর (মহাদ্রষ্টা), العلو আল ঊলু (সুউচ্চ) ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস- করার ফযীলত কি?
উত্তরঃ মুখস- করে আমল করলে বিনিময় জান্নাত।

প্রশ্নঃ ‘মুমিনের কলব আল্লাহর আরশ’ এটা কার কথা?
উত্তরঃ এটা মানুষের বানানো কথা। আল্লাহ বা রাসূলের কথা নয়। (জাল হাদীছ)

প্রশ্নঃ আল্লাহ কি নিরাকার?
উত্তরঃ না। কেননা তাঁর অসি-ত্ব ও সত্তা আছে। যার সত্তা ও অসি-ত্ব থাকে তাকে নিরাকার বলা যায় না।

প্রশ্নঃ “আল্লাহ সর্বস্থানে বিরাজমান নন, তিনি সপ্তকাশের উপর আরশে থাকেন।” একটি যুক্তি দিয়ে কথাটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ “আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?” এ প্রশ্নটি ছোট্ট একটি শিশুকে জিজ্ঞেস করলে, তার নিষ্পাপ মুখ থেকে জবাব আসবে ‘তিনি উপরে বা আকাশে আছেন’- সে কখনোই বলবে না ‘আল্লাহ্‌ সবজায়গায় আছেন’।

প্রশ্নঃ আল্লাহ যদি নিরাকার না হন, তবে তাঁকে কি দেখা সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ, তাঁকে দেখা সম্ভব। তবে এ দুনিয়ায় চর্ম চোখে সম্ভব নয়। আখেরাতে জান্নাতীগণ আল্লাহকে দেখবেন। (সূরা ক্বিয়ামাহ্‌ঃ ২২-২৩, বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)

প্রশ্নঃ ঈমান কাকে বলে?
উত্তরঃ ঈমান মানে বিশ্বাস। পরিভাষায়ঃ অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার ও কর্মে বাস্তবায়নকে ঈমান বলে।

প্রশ্নঃ ঈমান কি কমে ও বাড়ে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ঈমান কমে ও বাড়ে।

প্রশ্নঃ কিভাবে ঈমান কমে বাড়ে?
উত্তরঃ সৎকাজের মাধ্যমে ঈমান বাড়ে, আর অসৎ কাজ করলে ঈমান কমে।

প্রশ্নঃ ঈমানের শাখা কতটি?
উত্তরঃ সত্তরের অধিক।

প্রশ্নঃ ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর কি?
উত্তরঃ কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ করা।

প্রশ্নঃ ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা কি?
উত্তরঃ রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা।

প্রশ্নঃ ঈমানের স্তম্ভ কয়টি? কি কি?
উত্তরঃ ঈমানের স্তম্ভ ৬টি। সেগুলো হচ্ছেঃ (১) আল্লাহ (২) ফেরেশতাকুল (৩) আসমানী কিতাব (৪) নবী-রাসূল (৫) শেষ দিবস ও (৬) তক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান।

প্রশ্নঃ ইসলাম কাকে বলে?
উত্তরঃ ইসলাম অর্থ, আত্মসমর্পন। পরিভাষায়ঃ তাওহীদ ও আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করা এবং শির্ক ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা।

প্রশ্নঃ ইসলামের স্তম্ভ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ইসলামের স্তম্ভ ৫টি। সেগুলো হচ্ছেঃ (১) কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করা, (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা, (৩) যাকাত প্রদান করা (৪) রামাযান মাসে রোযা রাখা (৫) সামর্থ থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ্জ আদায় করা।

প্রশ্নঃ আল্লাহর ফেরেশতাগণ কিসের তৈরী?
উত্তরঃ তাঁরা নূরের তৈরী?

প্রশ্নঃ ফেরেশতাদের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ তাঁদের সংখ্যা কত তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

প্রশ্নঃ প্রধান চার ফেরেশতার নাম কি?
উত্তরঃ জিবরাঈল, ইসরাফীল, মীকাঈল ও মালাকুল মওত (আঃ)।

প্রশ্নঃ ওহী নাযিল করার দায়িত্ব কোন ফেরেশতার ছিল?
উত্তরঃ জিবরাঈল (আঃ) এর।

প্রশ্নঃ কোন ফেরেশতাকে সকল ফেরেশতার সরদার বলা হয়?
উত্তরঃ জিবরাঈল (আঃ) কে।

প্রশ্নঃ ইসরাফীল (আঃ) এর দায়িত্ব কি?
উত্তরঃ আল্লাহর নির্দেশ ক্রমে শিংগায় ফুৎকার দেয়া।

প্রশ্নঃ মীকাঈল ফেরেশতার কাজ কি?
উত্তরঃ তিনি বৃষ্টি বর্ষণ, উদ্ভিদ উৎপাদন প্রভৃতি কাজে নিয়োজিত।

প্রশ্নঃ প্রাণীকুলের জান কবজের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতার নাম কি?
উত্তরঃ মালাকুল মওত। (আজরাঈল নাম বিশুদ্ধ নয়)

প্রশ্নঃ কোন ফেরেশতা কি মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ করতে পারে?
উত্তরঃ না, আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ কারো কোন কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক নয়- ফেরেশতা, জিন, মানুষ- নবী, ওলী কেউ না।

প্রশ্নঃ প্রসিদ্ধ আসমানী কিতাব কতখানা?
উত্তরঃ ৪ খানা।

প্রশ্নঃ কোন্‌ কিতাব কোন্‌ নবীর উপর নাযিল হয়েছে?
উত্তরঃ কুরআন- মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর, তাওরাত- মূসা (আঃ)এর উপর, ইঞ্জিল- ঈসা (আঃ) এর উপর এবং যাবূর- দাউদ (আঃ)এর উপর।

প্রশ্নঃ সর্বশেষ আসমানী কিতাবের নাম কি?
উত্তরঃ কুরআনুল কারীম।

প্রশ্নঃ কালেমা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এর অর্থ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই।

প্রশ্নঃ আল্লাহ্‌ আমাদের কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তরঃ শুধু তাঁর ইবাদত করার জন্য। (সূরা যারিয়াত- ৫৬)

প্রশ্নঃ মানুষ মৃত্যু বরণ করলে, কবরে তাকে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। সেগুলো কি কি?
উত্তরঃ প্রশ্ন করা হবে- তোমার রব কে? তোমার নবী কে? তোমার দ্বীন কি?

প্রশ্নঃ ইবাদত কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ পছন্দ করেন এমন প্রত্যেক গোপন ও প্রকাশ্য কথা ও কাজকে ইবাদত বলা হয়।

প্রশ্নঃ ইবাদত কবূল হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ইবাদত কবূল হওয়ার শর্ত দু’টিঃ (১) ইবাদতটি একনিষ্টভাবে আল্লাহর জন্য করা (২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত মোতাবেক করা।

প্রশ্নঃ সঠিক ইবাদতের মূল ভিত্তি কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ যে কোন ইবাদত সঠিক হওয়ার জন্য তিনটি মূল ভিত্তি রয়েছে। (১) আল্লাহর প্রতি ভালবাসা, (২) তাঁকে ভয় করা ও (৩) তাঁর কাছে আশা-আকাংখা করা।

প্রশ্নঃ শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ ইবাদতের কোন একটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা।

প্রশ্নঃ শির্ক কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ শির্ক দু’প্রকারঃ বড় শির্ক ও ছোট শির্ক।

প্রশ্নঃ বড় শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে অংশী করাকে বড় শির্ক বলে।

প্রশ্নঃ বড় শির্কের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ এর অনেক উদাহরণ রয়েছেঃ যেমনঃ আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা, সাহায্য প্রার্থনা, সন্তান কামনা করা, বিপদাপদে উদ্ধার কামনা করা, গাইরুল্লাহর উদ্দশ্যে কুরবানী করা, কবর-মাজারে নযর-মান্নত করা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ বড় শির্কের পরিণাম কি?
উত্তরঃ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং তওবা না করে মৃত্যু বরণ করলে, চিরকাল জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (সূরা মায়েদাঃ ৭২)

প্রশ্নঃ কোন্‌ পাপ নিয়ে তওবা ছাড়া মৃত্যু বরণ করলে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে?
উত্তরঃ শির্ক।

প্রশ্নঃ নবী-ওলীকে উসীলা করে দু’আ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নবী, ওলী, ফেরেশতা বা যে কোন মানুষকে উসীলা করে দু’আ করা বড় শির্ক।

প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ কি মোটেও আল্লাহকে বিশ্বাস করত না?
উত্তরঃ তারা তাওহীদে রুবুবিয়্যার প্রতি বিশ্বাস রাখত।

প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ তাওহীদে রুবুবিয়্যার প্রতি বিশ্বাস রাখত, একথার প্রমাণ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ বলেন, “তাদের যদি জিজ্ঞেস কর যে, কে আসমান যমীন সৃষ্টি করেছে, তবে তারা জবাবে অবশ্যই বলবে, আল্লাহ্‌।” (সূরা লোকমান- ৩১)

প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ কি কোনই ইবাদত করত না?
উত্তরঃ তারা বিভিন্নভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। যেমন, তারা কা’বা ঘরের তওয়াফ করত। হজ্জ পালন করত ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণকে মুশরিক বলার কারণ কি?
উত্তরঃ কেননা তারা মুর্তি পুজা করত।

প্রশ্নঃ তাদের মুর্তি পুজার ধরণ কিরূপ ছিল?
উত্তরঃ তারা মুর্তিগুলোকে আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যম বা উসীলা মনে করত।

প্রশ্নঃ বিপদ-মুসীবতে পড়লে কাফেরদের অবস্থা কেমন হত?
উত্তরঃ বিপদ-মুসীবতে পড়লে তারা শির্ক করত না। তখন তারা একনিষ্টভাবে আল্লাহকে ডাকত।

প্রশ্নঃ বর্তমান যুগে অনেক লোক বিপদ-মুসীবতে পড়লে কী করে থাকে?
উত্তরঃ এ অবস্থায় অনেক মানুষ শির্কে লিপ্ত হয়। মাজারে দরবারে ধর্ণা দেয়। পীরের দরগায় নযর-মান্নত করে থাকে। তাবীজ-কবচ ব্যবহার করেে ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ নবী-রাসূলগণের দা’ওয়াতের মূল বক্তব্য কী ছিল?
উত্তরঃ “হে আমার সমপ্রদায়ের লোকেরা, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের সত্য কোন মা’বূদ নেই।” (সূরা আ’রাফঃ ৫৯)

প্রশ্নঃ ছোট শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সমস্ত কাজকে শরীয়তে শির্ক নামে আখ্যা দেয়া হয়েছে, কিন্তু উহা বড় শির্কের পর্যায়ভুক্ত নয়।

প্রশ্নঃ ছোট শির্কের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ মানুষকে দেখানো কিংবা প্রশংসা কুড়ানো কিংবা দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা, তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা, গণক-জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ তাবিজ-কবচ ব্যবহার সম্পর্কে ইসলামের হুকুম কি?
উত্তরঃ এ কাজ ছোট শির্কের অন্তর্ভূক্ত। তবে এটাকেই ত্রাণকর্তা ও আরোগ্য দাতা বিশ্বাস করলে বড় শির্ক।

প্রশ্নঃ ছোট শির্কে লিপ্ত হলে তার পরিণতি কি?
উত্তরঃ সে ইসলাম থেকে বের হবে না। তবে তার এই কাজ কাবীরা গুনাহের চাইতে বড় গুনাহ।

প্রশ্নঃ পিতা-মাতা, সন্তান, মসজিদ, কা’বা প্রভৃতির নামে শপথ করার হুকুম কি?
উত্তরঃ এরূপ শপথ বা কসম করা ছোট শির্কের অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ আব্দুর রাসূল (রাসূলের বান্দা), আবদুন্‌ নবী, গোলাম মোস্তফা, আব্দুল মুত্তালেব (মুত্তালেবের বান্দা) প্রভৃতি নাম রাখা কি?
উত্তরঃ এরূপ নাম রাখা ছোট শির্কের অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ ইবাদতে ‘রিয়া’ বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ মানুষকে দেখানো বা তাদের প্রশংসা ও ভালবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন ইবাদত সম্পাদন করা।

প্রশ্নঃ গণক বা জ্যোতীষীদের কাছে যাওয়ার ক্ষতি কি?
উত্তরঃ তাদের কাছে গিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে ৪০দিনের নামায কবূল হবে না। (মুসলিম)

প্রশ্নঃ গণক বা জ্যোতীষীদের কথা বিশ্বাস করার পরিণাম কি?
উত্তরঃ তাদের কথা বিশ্বাস করলে নবী (সাঃ)এর নিকট প্রেরীত কুরআনের সাথে কুফরী করা হবে। (মুসলিম)

প্রশ্নঃ কোন মানুষ ভুলবশতঃ কুফরী কাজ করে ফেললে বা কথা বলে ফেললে তার কি হবে?
উত্তরঃ তার কোন গুনাহ হবে না। তবে তার ভুল শুধরে দিতে হবে।

প্রশ্নঃ অসুখ-বিসুখ হলে ঝাড়-ফুঁক করার হুকুম কি?
উত্তরঃ কুরআনের আয়াত ও হাদীছের দু’আ পড়ে ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয।

প্রশ্নঃ কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহারের হুকুম কি?
উত্তরঃ নাজায়েয। কেননা এটা জায়েয হওয়ার পক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) বা সাহাবা-তাবেঈনের কারো থেকে কোন দলীল নেই। তাছাড়া কুরআনকে এভাবে ব্যবহার করলে, কুরআনের অবমাননা হয়।

প্রশ্নঃ বিদআত কাকে বলে?
উত্তরঃ ছোয়াবের নিয়ত করে যে ইবাদত করা হয়; অথচ তার পক্ষে শরীয়তে দলীল পাওয়া যায় না, তাকেই বিদআত বলে।

প্রশ্নঃ বর্তমানে প্রচলিত কিছু বিদআতের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ নামাযে মুখে নিয়ত পাঠ, মীলাদুন্নবী উদযাপন, দলবদ্ধভাবে যিকির, কুলখানি, চল্লিশা, খতমে জালালী, খতমে ইউনুস, ফাতেহাখানি, জন্মবার্ষীকি, মৃত্যুবার্ষীকি, শবে বরাত উদযাপন ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ বিদআত দু’প্রকারঃ ভাল বিদআত ও মন্দ বিদআত। এ সম্পর্কে আপনার মত কি?
উত্তরঃ এরূপ ভাগ করার কোন দলীল নেই। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” (মুসলিম)

প্রশ্নঃ সাইকেল, বাস, ট্রেন, প্লেনে চড়া, বিদ্যুৎ, মাইক ব্যবহার ইত্যাদি কি বিদআত নয়?
উত্তরঃ না, কেননা একাজগুলো ইবাদত মনে করে ছোয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় না। এগুলো দুনিয়াবী কাজ।

প্রশ্নঃ জিন জাতি কিসের তৈরী?
উত্তরঃ আগুনের তৈরী।

প্রশ্নঃ জিনদেরকে আল্লাহ্‌ কেন তৈরী করেছেন?
উত্তরঃ তাঁর ইবাদত করার জন্য। (সূরা যারিয়াতঃ ৫৬)

প্রশ্নঃ জিনেরা কি মানুষের ভাল-মন্দ করতে পারে?
উত্তরঃ না, আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ কারো ভাল-মন্দ করতে পারে না।

প্রশ্নঃ জিনদের নিকট থেকে সাহায্য নেয়া জায়েয আছে কি?
উত্তরঃ না, তাদের থেকে কোন সাহায্য নেয়া জায়েয নেই।

প্রশ্নঃ জিন তাবে করার হুকুম কি?
উত্তরঃ জিন তাবে করা জায়েয নেই।

প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম আল্লাহ্‌ তা’আলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম)এর নূর সৃষ্টি করেন, একথাটি কি ঠিক?
উত্তরঃ না, কেননা এ সম্পর্কে সহীহ্‌ কোন হাদীছ নেই। জাল (বানোয়াট) হাদীছের ভিত্তিতে অনেকে একথাটি বলে থাকে।

প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি নূর থেকে সৃষ্টি?
উত্তরঃ না, আদম সন্তান যে উপাদানে সৃষ্টি, তিনিও সেই উপাদানে সৃষ্টি। (সূরা কাহাফঃ ১১০)

প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি গায়েব জানতেন?
উত্তরঃ না, তিনি কোন গায়েব জানতেন না। (সূরা আনআমঃ ৫০)

প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি জীবিত?
উত্তরঃ না, তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। (সূরা যুমারঃ৩০)

প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি হাযের-নাযের (অর্থাৎ সবখানে তিনি উপস্থিত হতে পারেন, এরূপ বিশ্বাস করা কি)?
উত্তরঃ না, তিনি হাযের-নাযের নন। এরূপ বিশ্বাস করা কুফরী।

প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি কারো উপকার-অপকারের ক্ষমতা রাখেন?
উত্তরঃ না। (সূরা জিনঃ ২১)

প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্ম দিবস উপলক্ষে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করার হুকুম কি?
উত্তরঃ নাজায়েয, বিদআত।

প্রশ্নঃ কোন মুসলমানকে কাফের বলার পরিণতি কি?
উত্তরঃ ঐ ব্যক্তি কাফের না হলে, কথাটি যে বলেছে তার উপর পতিত হবে।

প্রশ্নঃ ফাসেক ব্যক্তির ইমামতিতে নামায পড়া জায়েয কি?
উত্তরঃ ফাসেককে ইমাম নিযুক্ত করা জায়েয নয়; তবে সে ইমাম হয়ে গেলে তার পিছনে নামায পড়া জায়েয।

প্রশ্নঃ মুসলামনদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন কাফেরকে হত্যা করার হুকুম কি?
উত্তরঃ হারাম। এরকম কাফেরকে যে ব্যক্তি হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না।

প্রশ্নঃ হিন্দু, ইহুদী, খৃষ্টান প্রভৃতি কাফেরকে কেউ যদি কাফের না বলে, তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তরঃ তাদেরকে যে ব্যক্তি কাফের বিশ্বাস করবে না বা তাদেরকে কাফের বলতে দ্বিধা করবে, সে কাফের হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা?
উত্তরঃ যারা আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকে এবং তার উপর ঐক্যবদ্ধ থাকে। আর সাহাবায়ে কেরাম তথা সালাফে সালেহীনের রীতি-নীতিকে অনুসরণ করে।

প্রশ্নঃ ইসলাম বা তার কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে, পরিণতি কি?
উত্তরঃ যে এরূপ করবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ বৈধ অসীলা কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ তিন প্রকারঃ (১) আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অসীলা (২) নেক আমলের অসীলা (৩) সৎ ব্যক্তির দু’আর অসীলা।

প্রশ্নঃ অবৈধ অসীলার উদাহরণ কি?
উত্তরঃ যেমনঃ নবী-রাসূল, ফেরেশতা, ওলী-আউলিয়া ইত্যাদির অসীলা করা। মৃত ব্যক্তির কাছে দু’আ চাওয়াও নিষিদ্ধ অসীলার অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ কবরে বা মাজারে বা কোন পীরের উদ্দেশ্যে মানত করার হুকুম কি?
উত্তরঃ শির্ক

আপনার কোন মতামত থাকলে আমাদেরকে লিখে জানান  

আপনার নাম*

আপনার ই-মেইল*

বিষয় লিখুন

আপনার মেসেজ লিখুন