BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
সংবাদ শিরোনাম
Home / সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আল্লাহর এই জমিনে সকল প্রকার জুলুম, নির্যাতন এবং জাহেলিয়াতের মূলোচ্ছেদ ঘটিয়ে আল কোরআন ও আল হাদীসের আলোকে আমাদের জীবনের সার্বিক পুনর্বিন্যাস সাধনের মাধ্যমে একটি সার্থক ইসলামী সমাজ গড়ে তোলা এবং পরকালীন নাজাতের মহান উদ্দেশ্যেই ১৯৯০ সালের ৫ জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস। ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রতিষ্ঠা জাতির প্রত্যাশারই বাস্তব প্রতিফলন। বস’ত লক্ষ্য বিস্মৃত মানবতার সত্যিকার কল্যাণ ও মুক্তির পথ নির্দেশের জন্যে যে দায়িত্ব মুসলিম মিল্লাতের উপর অর্পিত হয়েছে বর্তমান অবস্থার দাবী অনুযায়ী ইসলামী ছাত্র মজলিস সে কর্তব্য পালনের জন্যেই এগিয়ে এসেছে। আম্বিয়ায়ে কেরামগণ পৃথিবীর মানুষকে যে সত্যের পথে আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসলামী ছাত্র মজলিস সেই একই দাওয়াত নিয়ে ছাত্র সমাজের মধ্যে কাজ করছে। ছাত্র মজলিসের সংবিধানে এ সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ব্যক্তি জীবনের পরিশুদ্ধি, সমাজ ব্যবস’ার সার্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ লাভ এবং এই প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে আল্লাহর সন্তোষ ও পরকালীন মুক্তি অর্জন।

মৌল কর্মনীতি

সার্বিক বিষয়ে আল-কোরআন, রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাহ এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুসরণ।

কর্মসূচী

(এক) ছাত্র সমাজের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা, তাদের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানার্জনে উৎসাহ সৃষ্টি এবং ইসলামের বিধি-বিধান অনুসরণের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।

(দুই) যে সব ছাত্র ইসলামী আন্দোলনে অংশ নিতে আগ্রহী তাদেরকে এই সংগঠনে অন্তর্ভূক্ত করা।

(তিন) এই সংগঠনের অন্তর্ভূক্ত ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান, সে অনুযায়ী চরিত্র গঠন এবং মানবীয় গুণাবলীর বিকাশ সাধনের মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামী সমাজ বিপ্লবের যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ।

(চার) ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস’ার পুনর্গঠন, ছাত্র সমাজের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা পালন এবং শোষণ, জুলুম, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় থেকে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যে জনমত গঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো।

মোটকথা, ইসলামী ছাত্র মজলিস চায় বাংলাদেশের এই জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। একটি পরিপূর্ণ সমাজ বিপ্লবের মাধ্যমে সকল তাগুতী, খোদাদ্রোহী এবং জাহেলী শক্তিকে উৎখাত করে আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এর সমস্ত প্রয়াস এবং সাধনা। ইসলামী ছাত্র মজলিস তাই প্রচলিত অর্থে তথাকথিত কোন ছাত্র সংগঠনের নাম নয়। বরং এটি একটি দ্বীনি কাফেলা, একটি দ্বীনি আন্দোলন। ছাত্র মজলিস মনে করে অনৈক্য ও বিভ্রান্তি-ই এদেশে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। ছাত্র মজলিস বিশ্বাস করে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আনুগত্য, বিশ্বস্ততা এবং জাহেলিয়াতের প্রভাবমুক্ত সকল মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ব্যাপকভিত্তিক গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই এ জমিনে দ্বীন কায়েমের আন্দোলন সফল হতে পারে। তাই এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে ছাত্র মজলিস দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বস’ত দেড় হাজার বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে ইসলামী ছাত্র মজলিস বাংলাদেশের সবুজ অংগনে এক অনন্য সংযোজন। ছাত্র মজলিস মজলুম মানবতার একান্ত আপনজন। “তোমাদের কি হয়েছে তোমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছো না কেন? অথচ নির্যাতিত নারী-পুরুষ এবং শিশুরা আর্তনাদ করে বলছে ‘হে প্রভু, জালেম অত্যাচারীদের এ জনপদ থেকে আমাদেরমুক্ত কর এবং তোমার নিকট থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও”- আল কোরআনে আল্লাহ পাকের এ ঘোষণা অনুযায়ী সমাজের দীনি-দুঃখী, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত ও মজলুম তথা মুস্তাদআফীনদের (নিগৃহীত) মুক্তির লক্ষ্যে সংগ্রাম চালানোকে ছাত্র মজলিস অন্যতম কর্মসূচী হিসেবে গ্রহণ করেছে। বস’ত তৌহিদী দীক্ষায় দীক্ষিত একটি মানবগোষ্ঠী গড়ে তোলা, ইনসাফপূর্ণ তথা শোষণমুক্ত একটি সমাজ কায়েম করা এবং আখেরাতমুখী একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়াই ছাত্র মজলিসের স্বপ্ন ও প্রয়াস। তাই ছাত্র মজলিস সব সময় আহ্বান জানায় চির সত্যের পথে, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়ের আদর্শের পথে, প্রকৃত মুক্তির পথে।

আমাদের দাওয়াত

দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে আমরা ইসলামের সেই শাশ্বত সুন্দর মূল দাওয়াতই পেশ করতে চাই ঃ আসুন, আল্লাহর দ্বীনকে জানা ও বোঝার জন্যে আমরা তৎপর হই। আসুন, আমরা সকল প্রকার আনুগত্য ও দাসত্বপরিহার করে একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব গ্রহণ করি। সর্বপ্রকার মত, পথ ও বিধান ত্যাগ করে একমাত্র রাসূল (সাঃ)-এর আদর্শ জীবন ও পদাংক অনুসরণ করি। আর আমাদের এ আনুগত্য ও অনুসরণ যেন জীবনের কোন একটি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে বরং জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগে পরিব্যাপ্ত হয়। আসুন, আমরা আমাদের জীবন ইসলামের আলোকে উদ্ভাসিত করে তুলি এবং সত্যের সাক্ষ্যদাতা হয়ে দাঁড়াই। মানবসমাজেক আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূল (সাঃ)-এর দিকে ডাকি। আসুন, আমরা সংঘবদ্ধ হই। কেননা, আল্লাহপাক স্বয়ং আমাদেরকে সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর পথে লড়াই করতে আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সূরায়ে সফে তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন-“আল্লাহ তো ভালবাসেন সেই লোকদেরকে যারা তাঁর পথে লড়াই করে এমনভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে যেন তারা সীসাঢালা প্রাচীর।” “রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আল্লাহ পাক আমাকে যে পাঁচটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন আমিও তোমাদেরকে তারই হুকুম দিচ্ছি। তা হলো, জামায়াত (বা সংঘবদ্ধতা) কায়েম, নেতৃআদেশ শ্রবণ, আনুগত্য, হিজরত ও আল্লাহর পথে জিহাদ।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আমাদের সমাজে অনেকেই ইসলামে সংঘবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা সম্পর্কে মোটেই ওয়াকিবহাল নন। ফলে সংগঠনের কথা শুনলেই তারা এটাকে দুনিয়াবী ব্যাপার-স্যাপার এবং অতিরিক্ত ও অবাঞ্ছিত কাজকর্ম বলে মনে করেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেন, নামাজ-রোজা করলেই তো হলো, এসবের আবার দরকার কি। বস’ত এটা যে কতো বড় মারাত্মক অজ্ঞতা এবং জাহেলী চিন্তা তা কোরআন ও হাদীসের উপরোক্ত উদ্ধৃতি হতেই সুস্পষ্ট। আসলে একাকী ও ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় ইসলামের দাবী পূর্ণরূপে পালন মোটেই সম্ভব হয় না। ব্যক্তি জীবনের সাথে দ্বীনের এক সামান্য অংশেরই সম্পর্ক রয়েছে মাত্র। সেটুকু সে পালন করে ফেললেও পূর্ণ দ্বীন কায়েম হয়ে যায় না এবং এতে তার সত্যের সাক্ষ্য আদায় হয় না। তাছাড়া সমাজ জীবনে কুফরী ও জাহেলী ব্যবস’ার প্রাধান্য থাকলে ব্যক্তি জীবনেরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইসলামকেও সীমিত ও সংকুচিত করতে থাকে। যেমনটি আজকের সমাজেও হচ্ছে। কাজেই ইসলামের উপর পূর্ণরূপে টিকে থাকতে হলে, নিজের চতুষ্পার্শ্বে ইসলামী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে এবং দ্বীন কায়েমের চেষ্টা চালাতে হলে সংঘবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। হযরত ওমর (রাঃ)-এর জন্যেই বলেছেন যে, ‘লা ইসলামা ইল্লা বিল জামায়াত’ অর্থাৎ সংঘবদ্ধতা ছাড়া ইসলামের কোন অসি-ত্ব নেই। আমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর নাফরমানী এবং বিদ্রোহের আচরণে লিপ্ত কিংবা যারা আমরা প্রতিদিন গুনাহের পরিমাণ বাড়িয়েই চলেছি, তাদের প্রতি আমাদের আকুল আহ্বান আসুন, এই দুনিয়ায় আমাদের জীবনের ক্ষণস’ায়িত্বের ব্যাপারে আমরা সচেতন হই। অতি অল্প সময়ে নিঃশেষিত পার্থিব জীবনের এই স্বাদ-আস্বাদের কিইবা মূল্য আছে সেই চিরন্তন আজাবের বিনিময়ে, যার কোন সীমা নেই, শেষ নেই। দুনিয়া পূজারীদের জন্যে এই আজাব যে এক অশেষ ও চিরন্তন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে, তাতে কোন সন্দেহ আছে? আমরা কেউই তো আখেরাতের সেই কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করার যোগ্যতা ও সাহস রাখি না। সুতরাং কোন রকম বিলম্ব ছাড়াই সতর্কতার সাথে আমাদের পথ চলা শুরু করা দরকার। যেদিন ভাই তার আপন ভাই থেকে দৌড়ে পালাবে, পিতা-মাতা-সন্তান পরস্পরকে ছেড়ে যাবে, বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন কেউই পরিচয় পর্যন্ত দিতে রাজী হবে না; সেদিনের অসহায়ত্ব ও একাকিত্বের কথা চিন্তা করে এখনই হুঁশিয়ার হওয়া দরকার। আর জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে হলে আল্লাহ পাকের নির্দেশকেই মেনে নিতে হবে। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেছেন “েহ ঈমানদারগণ, আমি কি তোমাদেরকে একটি ব্যবসায়ের কথা বলবো যা তোমাদেরকে কঠিন পীড়াদায়ক আজাব হতে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় স’াপন কর এবং তাঁর পথে সংগ্রাম করো জান ও মাল দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর যদি তোমরা বুঝতে পারো। আল্লাহ তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নীচ হতে ঝর্ণাধারা সদা প্রবাহিত এবং সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে। আর এটাই হচেছ সবচেয়ে বড় সাফল্য।” (সূরা সফ) বস’ত জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে হলে এ পৃথিবীতে আমাদেরকে “জিহাদ ফি সাবীলিল্লাহ” অর্থাৎ আল্লাহর পথে জিহাদে আত্ননিয়োগ করতে হবে। আল্লাহর বিধানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে আমাদের সমস- যোগ্যতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে হবে। আল্লাহ পাক কোরআনে অন্যত্র বলেছেন- ‘মুমিনদের জান ও মাল আল্লাহ পাক জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন’। −আল্লাহর পথে লড়াই করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে জিহাদে অংশগ্রহণ তো করেই নি এমন কি আল্লাহর রাস্তা জিহাদ করার জন্যে নিজের মনে কোন বাসনাও পোষণ করেনি তার মৃত্যু মুনাফেকের মৃত্যু।” সুতরাং আখেরাতের মুক্তি পেতে হলে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে (অর্থাৎ একমাত্র দ্বীনের কাজে) অংশগ্রহণ করতেই হবে।

তাই আমাদের আহ্বান-আসুন, আমাদের ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক প্রচেষ্টা, আমাদের সংগ্রাম, আমাদের সমস- ত্যাগ ও কোরবানী একমাত্র এ উদ্দেশ্যেই নিয়োজিত করি যেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহর বাণী সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করে, রাসূলের (সাঃ) আনীত বিধান পৃথিবীর বুকে সঠিক অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের উপর মানুষের প্রভুত্ব, শোষণ এবং জুলুমের অবসান হয় এবং মানব জাতি ইসলামের ভিত্তিতে তাদের সামগ্রিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন ॥